রজব মাস সম্পর্কে কতিপয় জাল ও যঈফ হাদিস

রজব মাস সম্পর্কে আমাদের সমাজে লোকমুখে, ইন্টারনেটে বা বিভিন্ন ইসলামিক বই -পুস্তকে অনেক হাদিস প্রচলিত রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে কিছু হাদিস মুহাদ্দিসদের মানদণ্ডে সহীহ নয় আর কিছু হাদীস রয়েছে সম্পূর্ণ ভিত্তিঋহীন ও বানোয়াট।

Read More

ইসলামের দৃষ্টিতে হস্ত মৈথুন এবং সমকামীতা

হস্ত মৈথুন এবং সমকামীতা ইসলামের দৃষ্টিতে নিয়ে আলোচনা করছেন শায়খ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ। আল্লাহ আমাদেরকে হস্ত মৈথুন, সমকামীতা এবং গোপন পাপের মত গুরুতর পাপ থেকে দূরে রাখুন আমিন।

Read More

মানুষের সম্মান অর্জন করবেন যেভাবে

সম্মান, এমনই একটি বিষয়, যা মানুষ মাত্রই আশা করে। আর সে জন্য মানুষ এমন কোন কাজ নেই যা করে না। আসুন জানি আপনি কিভাবে…

Read More

সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে যা করণীয়

সন্তান ভুমিষ্ঠ হবার আগেই আমাদের মুসলিমদের কিছু বিষয় জেনে রাখা উচিৎ। সন্তান ভুমিষ্ঠের পর ইসলামে বৈধ্য এবং করণীয় কিছু বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে এখানে।

Read More

ইহুদিদের ২০ স্বভাব-চরিত্র

কুরআন ও হাদিসে ইহুদিদের অনেক স্বভাব-চরিত্র এবং বৈশিষ্ট্য উল্লেখিত হয়েছে। সেগুলো থেকে নিম্নে অতি সংক্ষেপে ২০টি পয়েন্ট তুলে ধরা হল

Read More

লিপস্টিক ব্যবহার করা যাবে কি?

শুধু আমার স্বামীর সামনে লিপস্টিক ব্যবহার করা কি জায়েয হবে? কেউ কেউ বলেন যে, লিপস্টিকে শূকরের চর্বি রয়েছে। এ কথা কি ঠিক? যদি ঠিক হয় তাহলে আমাদের জন্যে লিপস্টিক ব্যবহার করা কি জায়েয হবে? আশি করি বিষয়টি স্পষ্ট করবেন।

আলহামদু লিল্লাহ।

যা কিছু সাজসজ্জা ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য সেটার মূল বিধান হচ্ছে— বৈধ ও জায়েয হওয়া। আল্লাহ্‌তাআলা বলেন:

“তিনিই সেই মহান সত্তা যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন।”[সূরা বাক্বারা, আয়াত: ২৯]

কখনও মুস্তাহাব হতে পারে; যদি সেই সাজ স্বামীর উদ্দেশ্যে হয়। তখন এটি শরিয়ত নির্দেশিত বিষয়। তবে এটি বৈধ হওয়া শর্তযুক্ত: যাতে করে সেটা হারাম ক্ষেত্রে ব্যবহৃত না হয়; যেমন যাদের সামনে সৌন্দর্য প্রদর্শন করা নাজায়েয এমন গাইরে মাহরাম পুরুষদের জন্য সাজগোজ করা। অনুরূপভাবে প্রসাদনী সামগ্রীর মাঝে দেহের জন্য ক্ষতিকর কোন উপাদান বা নাপাক উপাদান (উদাহরণতঃ শূকরের চর্বি) না থাকা। যদি থাকে তাহলে এমন সাজগোজ হারাম হবে। কেননা যা কিছু মানুষের জন্য ক্ষতিকর তা করা নিষিদ্ধ। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:\

“নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নয় এবং অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করা নয়।”

শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন: “ঠোটে লিপস্টিক দিতে কোন আপত্তি নেই। কেননা মূল বিধান হল: বৈধতা; যতক্ষণ না হারাম হওয়া সাব্যস্ত হয়…। কিন্তু যদি সাব্যস্ত হয় যে, এটি ঠোঁটের জন্য ক্ষতিকর; এটি ঠোঁটকে শুকিয়ে ফেলে, ঠোঁটের আর্দ্রতা ও তৈলাক্ততা দূর করে দেয়— এ ধরণের অবস্থার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার থেকে নিষেধ করা হবে। আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, এটি ঠোঁট ফাঁটার কারণ। যদি তা সাব্যস্ত হয় তাহলে মানুষের জন্য যা কিছু ক্ষতিকর সেটি করা তার জন্য নিষিদ্ধ।[ফাতাওয়া মানারুল ইসলাম (৩/৮৩১)]

ড. ওয়াজিহ যাইনুল আবেদীন ‘আল-ওয়া’য়ুল ইসলামী’ নামক ম্যাগাজিনে বর্তমানে যে কসমেটিকসগুলো জনপ্রিয় এবং নারীরা যেগুলো ব্যবহার করে থাকেন এগুলোর অপকারিতা সম্পর্কে তিনি একটি আর্টিকেল লিখেছেন। সে আর্টিকেলে এসেছে: “…লিপস্টিক ব্যবহারে ঠোঁটের ক্যান্সার হতে পারে কিংবা ঠোঁটের কোমল চামড়া শুকিয়ে যেতে পারে, ফেটে যেতে পারে। কারণ লিপস্টিক ঠোঁটকে সুরক্ষাকারী স্তরটি ধ্বংস করে ফেলে।”[শাইখ আব্দুল্লাহ্‌ফাওযান রচিত “যিনাতুল মারআতিল মুসলিমা (পৃষ্ঠা-৫১) থেকে সংকলিত]

তাই মুসলিম নারীর উচিত বর্তমানে জনপ্রিয় কসমেটিকস সামগ্রীগুলো ব্যবহার করার পূর্বে এটি দেহের জন্য ক্ষতিকর নয় মর্মে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

তথ্যসূত্রঃ ইসলাম প্রশ্ন উত্তর

Read More

ভ্যালেন্টাইনস ডে পালন করা যাবে কি?

ভালবাসা দিবস সম্পর্কে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের ফতোয়া

ফতোওয়াটি সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদে বিশ্লেষণের পর এই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে যে, কুরআন সুন্নাহর স্পষ্ট প্রমাণাদি দ্বারা এ কথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে, ইসলামে ঈদ বা উৎসবের দিন মাত্র দু’টি। সালাফে সালেহীনগণও এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। ইসলামে স্বীকৃত ঈদ দুটির একটি হল ঈদুল ফিতর, অপরটি হল ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ।

উল্লিখিত ঈদ দু’টি ব্যতীত যত ঈদ বা উৎসব আছে, হোক না তা কোন ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত, বা কোন গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত, বা কোন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত, তা বিদআত। মুসলমানদের তা পালন করা বা পালন করতে বলা বৈধ নয় এবং এ উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশ করা ও এ ব্যাপারে কিছু দিয়ে সাহায্য করাও নিষেধ। কেননা এ ধরনের কাজ আল্লাহ তা’আলার সীমা লঙ্ঘন বৈ অন্য কিছু হবে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করবে সে নিজের উপর অত্যাচার করবে।

এ ধরনের কালচার বিধর্মীদের অনুসরনের কল্পে গ্রহণ করা হলে অপরাধ আরো মারাত্বক হবে। কারণ এর মাধ্যমে তাদের সদৃশ্যতা গ্রহণ করা এবং তাদেরকে এক ধরনের বন্ধু বানানো হয়। অথচ আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে এ থেকে বারণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,   من تشبه بقوم فهو منهم  যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্যতা অবলম্বন করল সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য। ভালবাসা দিবস পালন করাও এ নিষেধের অন্তর্ভুক্ত। কেননা এটি খৃষ্টানদের উৎসব।

যে মুসলমান আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে তার জন্য এ কাজ করা দেয়া বা এই দিনে কাউকে ফুল বা অন্যকোনো উপহার দেয়া বৈধ নয়। বরং তার কর্তব্য হল আল্লাহ এবং তার রাসূলের হুকুম পালন করা এবং আল্লাহর শাস্তি ও গযব আসে এমন কাজ থেকে নিজে দূরে থাকা ও অন্যদের দূরে রাখা।

অতএব এ দিবসকে কেন্দ্র করে পানাহার করা, ক্রয়-বিক্রয় করা, কোন কিছু প্রস্তুত করা বা উপঢৌকন দেয়া, চিঠি-পত্র চালাচালি করা ও প্রচার-পত্র বিলি করা অবৈধ। এ সমস্ত কাজের মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানি করা হয়।

আল্লাহ তা’আলা বলেন, (وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ) المائدة2

সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা। (আল মায়িদাহ – আয়াত ২)

ফতোয়া নং ২১২০৩ তারিখঃ ২৩-১১- ১৪২০ হি

ফতোয়াটি যারা সত্যায়ন করেছেন :
সৌদি আরবের গবেষণা ও ফতোয়া প্রদান বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দঃ
আব্দুল আযিয বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আলে শেখ
সদস্য: সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান
সদস্য: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-গদইয়ান
সদস্য: বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু জায়েদ

তথ্যসূত্রঃ ইসলামহাউজ.কম

Read More