প্রশ্ন: আমি কি আমার বাড়িতে বিড়াল পালন করতে পারবো? এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিতে কোন বাধা বা বাধ্যবাধকতা আছে কি না। দয়াকরে বিস্তারিত জানাবেন।

উত্তরঃ বাড়িতে বিড়াল প্রতিপালনে কোন আপত্তি নাই। তবে বিড়ালকে পর্যাপ্ত খাদ্য-পানীয় সরবরাহ করতে হবে, তাকে মার-পিট বা অত্যাচার করা যাবে না। অন্যথায় গুনাহ হবে।

বিড়াল বিষয়ক হাদিসঃ

এক মহিলা বিনা কারণে বন্দী অবস্থায় না খাইয়ে কষ্ট দিয়ে একটি বিড়ালকে মেরে ফেলার কারণে জাহান্নামী হয়েছে। যেমন আবদুল্লাহ রা. হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

عُذِّبَتِ امْرَأَةٌ فِي هِرَّةٍ سَجَنَتْهَا حَتَّى مَاتَتْ فَدَخَلَتْ فِيهَا النَّارَ لاَ هِيَ أَطْعَمَتْهَا وَسَقَتْهَا إِذْ حَبَسَتْهَا وَلاَ هِيَ تَرَكَتْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الأَرْضِ

একজন মহিলাকে একটি বিড়ালের জন্য আযাব (শাস্তি) দেয়া হয় এজন্য যে, সে বিড়ালটিকে আটকে রেখেছিল, পরিশেষে সেটি মারা গেল। যার জন্য সে জাহান্নামে গেল। যে মেয়ে লোকটি বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছে, নিজেও পানাহার করায়নি আর সেটিকে সে ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে বাঁচতে পারে।

সহীহ মুসলিম, হা/5745,অধ্যায়ঃ সালাম (كتاب السلام)-পরিচ্ছদঃ বিড়াল হত্যা করা হারাম-হাদীস একাডেমী

বিড়াল অপবিত্র নয়ঃ

বিড়ালের অপবিত্র না হবার বিষয়ে একটি হাদিসঃ

কাবশা বিনত কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ কাতাদা (রাঃ) একদিন তাঁর নিকট আগমন করেন। তারপর কাবশা কিছু কথা বলেনঃ যার অর্থ হচ্ছে, আমি আবূ কাতাদা (রাঃ) এর জন্য উযূর পানি রাখি। ইত্যবসরে একটি বিড়াল এসে পাত্র থেকে পানি পান করে। আবূ কাতাদা (রাঃ) পাত্রটি কাত করে দিলে বিড়ালটি পানি পান করে। কাবশা বলেনঃ আবূ কাতাদা (রাঃ) আমাকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, হে ভাতিজী! (আমি বিড়ালকে পাত্র থেকে পানি পান করিয়েছে দেখে) তুমি আশ্চর্যান্বিত হয়েছ কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, বিড়াল অপবিত্র নয়। কারণ যে সব প্রাণী প্রতিনিয়ত তোমাদের আশে পাশে থাকে, তাদের মধ্যে বিড়ালও একটি।

সূনান নাসাঈ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) | অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা (كتاب الطهارة) | হাদিস নাম্বার: ৬৮

আরও পড়ুনঃ ঘরে প্রাণীর ছবি, প্রতিকৃতি বা মূর্তি থাকলে সালাত আদায় করার বিধান

উত্তর প্রদানেঃ
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

** মূল উত্তরের শেষে একটি হাদিস যোগ করা হয়েছে

আমাদের সাথে থাকুনঃ