প্রশ্নঃ বর্তমানে বিয়ের অনুষ্ঠানের একটি চোখে পড়ার মত বিষয় হচ্ছে বর-কনের মাঝে মালা বদল। আমি জানতে চাচ্ছি, বর-কনের মাঝে এই মালা বদল অংশটি ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েজ কি না।

উত্তরঃ মুসলিম সমাজে বিয়েতে এই প্রথাটি ব্যাপাকভাব প্রচলিত না থাকলেও কোনও স্থানে তা প্রচলিত আছে।

মালা বদল – অন্য ধর্মীয় সংস্কৃতিঃ

এ প্রথাটা মূলতঃ হিন্দু বিয়ের রীতি। হিন্দুদের ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী মতে মালা বদল এর মাধ্যমে বর ও কনে একে অন্যকে জীবনসঙ্গী হিসাবে মেনে নেয়।

হিন্দু বিয়ের নিয়মে বলা হয়েছে: “শুভ সময় এগিয়ে আসার সাথে সাথে নববধূ পরিবারের ৪-৫জন পুরুষ তার নিখুঁত পিড়ি (পীডি) নিয়ে বসে থাকে। বরকে কেন্দ্র করে সাত বার কনেকে পিরিতে বসিয়ে ঘোরান হয়-যাতে নববধূ এবং বর সারাজীবন “নিরাপদে বেঁধে রাখা হয় পরস্পরের সাথে”।

অবশেষে, নববধূ এবং বরকে মুখোমুখি হতে হয় এবং কন্যার মুখের সামনে থেকে পান পাতা সরিয়ে ফেলার সময় দুইজনে দুজনের মুখমুখি হয়। একে শুভ দৃষ্টি বলা হয়। শঙ্খ ধ্বনি এবং “উলুধ্বনি”দিয়ে “মালা বদল”নামে অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হয়।” (সূত্র: উইকিপিডিয়া)

আরো বলা হয়েছে, “সাজ বিয়ের মূল পর্ব। এই পর্বেই কনে আর বরকে ৭ বার প্রদক্ষিণ করে বরণ করে নেয়। বরণ শেষে বর-কনে দু জনের দিকে শুভ দৃষ্টি দেয়। একই সময় মালা বদল করা হয়। পরে পুরোহিত মন্ত্র উচ্চারণ করে বর-কনের ডান হাত একত্রে করে কুশ দিয়ে বেধে দেন।” (সূত্র: bdmorning)

ইসলামে মালা বদল এর স্থানঃ

ইসলামের সাথে এই প্রথার দ্রুততম কোন সম্পর্ক নেই। বরং ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়ের অভিভাবকের সম্মতি সাপেক্ষে মোহরানা নির্ধারণপূর্বক দু জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ঈজাব-কবুল (প্রস্তাব এবং গ্রহন) এর মাধ্যমে একে অপরকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মেনে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।

সুতরাং তথাকথিত এই ‘মালা বদল’ প্রথা মুসলিমদের জন্য পালন করা বৈধ নয়। অন্যথায় তা অন্য ধর্মের সাদৃশ্য অবলম্বন হিসেবে পরিগণিত হবে যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ

“যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে।”

আবু দাউদ, সহীহুল জামি‘ ৬১৪৯, ইরওয়া ২৬৯১

আরও পড়ুনঃ স্বামী-স্ত্রী কত দিন আলাদা থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে?

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অন্য ধর্মের অন্ধ অনুকরণ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

আল্লাহু আলাম।

উত্তর প্রদানেঃ
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।