0

প্রশ্নঃ আমাদের দেশে দেখা যায় স্কুলে ভর্তির সময় ১/২ বছর বয়স কমিয়ে দেওয়া হয়। অনেক সময় স্কুলের শিক্ষকরা এটি করেন। তবে বেশীরভাগ সময়ই পিতামাতা এই কাজটি করেন এই হিসাব করে যে এতে করে সরকারী চাকরীতে আবেদন করবার সময়সীমা বেশী পাবে। জানতে চাচ্ছি এটি করা কি ঠিক হবে?

আর যদি কেউ আসল বয়স বেশী হওয়া সত্যেও এই মিথ্যা জন্ম তারিখের কারণে বাড়তি সময়ে আবেদন করে চাকরী পায়, সেক্ষেত্রে বিধান কি হবে?

উত্তরঃ স্কুলে ফরম ফিলাপ, জন্ম নিবন্ধন সনদ বা পাসপোর্ট তৈরির সময় প্রকৃত জন্ম তারিখের পরিবর্তে অন্য তারিখ ব্যবহার করা নি:সন্দে মিথ্যা ও প্রতারণার শামিল। ইসলামের দৃষ্টিতে তা কবিরা গুনাহ এবং দেশের প্রচলিত আইনেও অপরাধ।

 রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

« مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا »

“যে আমাদেরকে ধোঁকা দেয় সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।”

সহিহ মুসলিম: ১০১

অর্থাৎ সে ইসলামের আদর্শ থেকে দূরে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন:

وإياكم والكذب، فإن الكذب يهدي إلى الفجور، وإن الفجور يهدي إلى النار، وإن الرجل يكذب ويتحرى الكذب حتى يكتب عند الله كذابا.

“আর মিথ্যা থেকে দূরে থাক। কারণ মিথ্যা পথ দেখায় পাপাচারের। আর পাপাচার উপনীত করে জাহান্নামে। যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে ও মিথ্যার অন্বেষায় থাকে, এভাবে একসময় আল্লাহর কাছে সে চরম মিথ্যুক হিসেবে লিখিত হয়ে যায়।”

সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬০৭

সুতরাং জন্ম তারিখ পরিবর্তন করা করা জায়েজ নাই। চাকুরীতে অ্যাপ্লায়ের মেয়াদ বৃদ্ধি বা চাকুরীর বয়স বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এমনটি করলে আল্লাহর নিকট অপরাধী সাব্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি সে নিজের বিবেকের কাছেও অপরাধী হয়ে থাকে।

বয়স কমিয়ে চাকরী পেলেঃ

যাহোক, কেউ যদি এ ধরণের কাগজ সাবমিট করার মাধ্যমে হালাল কাজের চাকুরীতে প্রবেশ করে এবং উক্ত কাজের জন্য তার মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকে, যথাযথভাবে কাজ সম্পাদন করে এবং কাজের ক্ষেত্রে কোন ধরণের অবহেলা প্রদর্শন না করে তাহলে এর মাধ্যমে তার উপার্জিত সম্পদ হালাল।

তবে জন্ম সনদে বয়স কমিয়ে লিখার মাধ্যমে মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়ার কারণে আল্লাহর নিকট খাঁটি অন্তরে তওবা করা আবশ্যক।

উল্লেখ্য যে, জাল সার্টিফিকেট ও ডকুমেন্টস দ্বারা চাকুরী করার বিধানও একই।

আরও পড়ুনঃ পণ্য বিক্রয়-এ লাভের সর্বোচ্চ সীমা

আল্লাহ আমাদেরকে হারাম থেকে রক্ষা করুন এবং হালাল পথে জীবিকা অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমীন।

উত্তর প্রদানেঃ
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা


বিদআতীর সাথে বিবাহ বন্ধনের বিধান

Previous article

You may also like