প্রায়সই দেখা যায় যে বিভিন্ন রকমের বোরকা বিক্রির জন্য তা পরিয়ে বিভিন্ন ভাবে ছবি তুলে (বা মডেলিং করে) তা ইন্টারনেটে দেওয়া হয় বোরকা বিক্রির উদ্দেশ্যে। আবার এই সব ছবিতে দেহের গড়ন অনেক সময় প্রকাশিতও হয়। তাছাড়া এই সব ছবিতে বোরকাকে এবং মডেলকে আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন ভঙ্গীমা, ফুল ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় এটি কতটুকু শরিয়ত সম্মত?

উত্তরঃ মহিলারা যত বেশি নিজেদেরকে পর পুরুষদের দৃষ্টির আড়ালে রাখবে ততই উত্তম-চাই বাস্তবে হোক অথবা ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে হোক। বোরকা সহ হোক অথবা বোরকা ছাড়া হোক।

হাদিসে তাওহীদের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত সালাতের ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য মসজিদে যাওয়ার চেয়ে নিজ বাড়িকে অধিক উত্তম বলা হয়েছে। নিজ বাড়ির মধ্যে সবচেয়ে গোপনীয় স্থানে নামায পড়াকে আরও অধিক উত্তম বলা হয়েছে।

মহিলাদের জন্য জুমা ও জামাতে সালাত আবশ্যক করা হয় নি। যেন তারা তাদেরকে পরপুরুষদের দৃষ্টি থেকে সংরক্ষণ করতে পারে এবং ফেতনা-ফ্যাসাদ থেকে রক্ষা পায়। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে প্রথমত: বাড়িতে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন কিন্তু জাহেলি জামানার মত পর্দা হীনভাবে নয়।

আল্লাহ বলেন:

قَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ ۖ وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّـهَ وَرَسُولَهُ ۚ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّـهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا

“তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে-মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে। হে নবী পরিবারের সদস্যবর্গ। আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে।”

সূরা আহযাব: ৩৩

সব মিলিয়ে কথা হল, নারীরা যথাসম্ভব পরপুরুষ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে নিজেদের ইজ্জত-সম্ভ্রম সংরক্ষণ করবে এবং একান্ত জরুরি না হলে পরপুরুষের সামনে যাবে না-বাস্তব জগতে হোক বা ভার্চুয়াল জগতে হোক। এটা তাদের পবিত্রতা ও নিরাপত্তার জন্য জন্য অধিক উপযোগী এবং ইসলামের বিধান।

সুতরাং এখান থেকে বলব, ফেসবুক ও অনলাইনের এ ফেতনাময় জগতে বোরকা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বোরকা পরিধান করে আকর্ষণীয় ভঙ্গীতে মহিলাদের মডেলিং করা ছবি পোস্ট করা উচিৎ নয়। আর যদি কোনও সুন্দর গঠনধারী যুবতী মেয়ের মাধ্যমে বোরকা ব্যবসার জন্য মডেলিং করা হয় (সাধারণ এমটাই হয়) তাহলে তা তার নিজের জন্য যেমন ফেতনার কারণ অন্যের জন্যও ফেতনার কারণ-তাতে কোনও সন্দেহ নাই।

তাহলে বোরকা বিক্রির জন্য ছবি তোলা যাবে কিভাবে?

তবে বোরকা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে যদি পোশাক ডিসপ্লে করার জন্য বর্তমানে যেকল আধুনিক উপায়-উপকরণ রয়েছে (যেমন মস্তকবিহীন ডামি বা ডল) সেগুলো ব্যবহার করা হয় তাহলে তাতে কোনো আপত্তি নেই ইনশাআল্লাহ। 

এছাড়াও বর্তমানে অনলাইন ভিত্তিক বহু ফ্যাশন শপের পক্ষ থেকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ফেসবুক ও ইউটিউটবে সুন্দরী তরুণীদের মাধ্যমে বোরকা পরিধানের লাইভ কলা-কৌশল দেখানো হচ্ছে। চেহারা খোলা মডেলদের মাধ্যমে বেরাকা প্রদর্শনী করা হচ্ছে-যেগুলো মহিলাদের পাশাপাশি দেখছে বিভিন্ন শ্রেণীর পুরুষ। এ কাজগুলো যে শরিয়া পরিপন্থী এবং নাজায়েয তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বোরকা এর বিষয়ে লক্ষ্যণীয়ঃ

আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, বোরকা বা হিজবের উদ্দেশ্য হল, পরপুরুষের দৃষ্টি থেকে নিজের সৌন্দর্যকে ঢেকে রাখা। কিন্তু বর্তমানে অনেক বোরকা/হিজাব এতটা কালারফুল, ফ্যাশনেবল, কারুকার্য খঁচিত ও টাইট-ফিট যে, সেটা নারীকে আরও আকর্ষণীয় ও মোহনীয় করে তুলে ধরে।

কোনো মুসলিম নারীর জন্য এ ধরণের বোরকা পরা জায়েয নয়। কারণ এ দ্বারা বোরকার মূল উদ্দেশ্যই ব্যহত হয়। জনৈক মনিষী যর্থাথই বলেছেন: “এ ধরণের বোরকাকে ঢাকার জন্য প্রয়োজন আরেকটি বোরকা।”
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সব ধরণের ফেতনা-ফ্যাসাদ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

আরও পড়ুনঃ মহিলাদের টি-শার্ট ও জিন্সের প্যান্ট পরিধানের বিধান

আল্লাহু আলাম।

উত্তর প্রদানেঃ
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।


One thought on “বোরকা বিক্রয়ের জন্য তা পরে মডেলিং

Comments are closed.