0

প্রশ্ন : আইয়ামে বীজের রোজা চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে না রাখতে পারলে কি মাসের যে কোনো দিন রাখা যাবে? আর একটানা তিন দিন লাগাতার রাখতে হবে নাকি বিচ্ছিন্ন ভাবে রাখলেও হবে?

উত্তরঃ চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখকে আইয়ামে বীজ বলা হয়। বিয শব্দের অর্থ উজ্জল। এ তিন রাতে চাঁদ বেশি উজ্জল থাকে তাই সেগুলোকে বীয বলা হয়েছে।

এ তিন দিন রোযা থাকা উত্তম। আবু যর রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

إِذَا صُمْتَ شَيْئًا مِنَ الشَّهْرِ ، فَصُمْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ ، وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ ، وَخَمْسَ عَشْرَةَ
“প্রত্যেক মাসে কিছু (নফল) রোযা পালন করলে (চন্দ্র মাসের) ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে পালন করো।”

তিরমিযীঃ ৭৬১, নাসায়ীঃ ২৪২৪, শায়খ আলবানীর মতে হাসান সহীহ, তাহকীক রিয়াদুস সালেহীন

তবে কেউ যদি সে সময় না রাখতে পারে বরং অন্য সময় তিনটি রোযা রাখে তবে একই সওয়াব পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

 প্রত্যেক মাসে তিনটি করে রোযা রাখার ফযীলতঃ

প্রতি মাসে তিনটি করে নফল রোযা রাখা অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ কাজ। চাই তা মাসের শুরুতে হোক, মাঝখানে হোক বা শেষে হোক। চাই লাগাতার রাখা হোক বা বিছিন্নভাবে রাখা হোক।

আবু দরদা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ

أوصاني خليلي بثلاث لا أدعهن حتى أموت صوم ثلاثة أيام من كل شهر وصلاة الضحى ونوم على وتر .
رواه البخاري ( 1124 ) ومسلم ( 721 )
“আমার প্রিয় বন্ধু (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে এমন তিনটি কাজের অসিয়ত করেছেন, যা আমি যতদিন বেঁচে থাকব, কখনোই ত্যাগ করব না। সেগুলো হচ্ছে: প্রতি মাসে তিনটি করে রোযা পালন করা, চাশতের নামায পড়া এবং বিতির না পড়ে ঘুমাতে না যাওয়া।”

সহীহ মুসলিমঃ ৭২২

প্রত্যেক মাসে ৩টি করে রোযা রাখলে সারা বছর নফল রোযা রাখার সমান পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। কারণ, আল্লাহ তাআলা যেকোনো ভালো কাজের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ বা তার চেয়ে বেশী দান করেন। সে হিসেবে ৩×১০=৩০ অর্থাৎ মাসে তিনটি রোযার বিনিময়ে অন্তত: পুরো মাস নফল রোযার সওয়াব পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

এভাবে প্রতি মাসে ৩টি রোযা রাখলে সারা বছরই নফল রোযা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে ইন শা’ আল্লাহ।

আ’ব্দুল্লাহ ইবনে আ’মর ইবনে আ’স রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

صيام ثلاثة أيام من كل شهر صيام الدهر
“প্রতি মাসে তিনটি করে রোযা রাখা, সারা বছর ধরে রোযা রাখার সমান।”

সহীহুল বুখারীঃ ১১৫৯, ১৯৭৫

আল্লাহু আলাম।


উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

ফসলের যাকাতের পদ্ধতি ও পরিমাণ

Previous article

সালাতে মাতৃভাষায় দোয়া করার বিধান

Next article

You may also like